মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য , শিক্ষা ও স্যানিটেশন)

জাতিসংঘ শিশু তহবিল(United Nations Children's Fund) বাইউনিসেফ[১](UNICEF=United Nations International Children's Emergency Fund) জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থার নাম। শিশুদের উন্নতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডপরিচালনা করে থাকে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে এই সংস্থাগঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই সংস্থার সদর দপ্তরনিউ ইয়র্কে অবস্থিত।১৯৬৫ সালে ইউনিসেফ তাদের কল্যাণমুখী ভূমিকার কারণেনোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়

 

শিক্ষা:-

 

প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের সকল শিশুকেমানসম্পন্ন শিশুবান্ধব শিক্ষা প্রদানের জন্য ইউনিসেফ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নগতকাল সোমবার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। মূলত কার্যকর, সমন্বিত এবং সমতাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্যেবাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতা প্রদানের উদ্দেশ্যে ইউনিসেফ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এচুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশনপ্রধান, রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হান্না এবং ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধিপ্যাসকেল ভিলনোভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এইসহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।
এই সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নকর্মসূচিতে (পিইডিপি-৩) চার বছরের (২০১২-১৬) জন্য ইউনিসেফকে ৩৫ লাখ ডলার(২৮ লাখ ইউরো বা প্রায় ২৮ কোটি টাকা) অনুদান প্রদান করেছে। এক বছরব্যাপীপ্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা এইকর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফ প্রতিনিধি প্যাসকেলভিলনোভ বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাংলাদেশেঅনেক শিশুর জন্যই এই অধিকার এখন পর্যন্ত বাস্তবতায় পরিণত হয়নি। শিক্ষারজন্য মাতা-পিতা, শিক্ষক, ছাত্র, সমাজ, সুশীলসমাজ, এনজিও, উন্নয়ন সহযোগী এবংসরকার_ সকলেরই সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজন। সুতরাং বাংলাদেশে সকল শিশুর জন্যমানসম্পন্ন শিক্ষা বাস্তবায়িত করার কাজে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে সহযোগীহিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আমাদের সঙ্গে পেয়ে আমরা আনন্দিত। এই উদারসাহায্যের জন্যে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানাই। ইইউ রাষ্ট্রদূতউইলিয়াম হান্না বলেন, শিশুদের জন্যে বিনিয়োগ ইইউর জন্যে একটি অন্যতম প্রধানকার্যক্রম।

স্বাত্থ্য

বাংলাদেশেশিশু মৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেক কমেছে। বিগত ২২ বছরে মৃত্যুর এই হার কমেপ্রায় ৭২ শতাংশে পৌঁঁছেছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। রিপোর্টেউল্লেখ করা হয়, ১৯৯০ সালের আগে বাংলাদেশে প্রতিদিনই প্রায় এক হাজার ৪৫৪টিশিশু মারা যেত, সেখানে এখন মারা যায় ৩৪৭টি।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘের শিশুউন্নয়ন ফান্ড এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শিশুমৃত্যু হার রোধে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতিকরেছে। বাংলাদেশের পরেই আছে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, কঙ্গো এবং চীনে শিশু মৃত্যুর হার অনেক বেশি। প্রতি বছর দেশগুলোতে প্রায় ৬৫লাখ শিশু মারা যায়। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশিভারতে। ২০১২ সালে ভারতে পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৪ লাখ শিশু মারা যায়।
১৯৯০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই ২২ বছরে বিশ্বে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার কমে ৯০ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশে এসেছে।
১৯৯০সালে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু মারা যায়। কিন্তু ২০১২ সালে মারা যায়এক লাখ দুই হাজার। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) বাংলাদেশএরইমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে। যেখানে ইউনিসেফ কিছুদিন আগেই সহস্রাব্দ উন্নয়নলক্ষ্যমাত্রায় শিশু মৃত্যুহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিল, উন্নয়নলক্ষ্যমাত্রা চলতি গতিতে চলতে থাকতে লক্ষ্যপূরণে ২০১৮ সাল লেগে যাবে।
ইউনিসেফেরপ্রকাশিত এক রিপোর্টে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় যদি এখনইপদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে বিশ্বে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় তিনকোটি ৫ লাখ শিশু মারা যাবে।
বাংলাদেশের অগ্রগতিকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখকরে ইউনিসেফ জানায়, ‘বাংলাদেশে ২২ বছরে শিশু মৃত্যুহার ৭২ শতাংশ কমেছে।ভিটামিন এ কর্মসূচি, ডায়রিয়া প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ এবং টিকা দানকর্মসূচির কল্যাণে বাংলাদেশ এই সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।

 

শিশুদের সমস্যা সমাধানে ইউনিসেফ ভবিষ্যতে পরিবেশ নিয়ে কাজ করবে।

বৃহস্পতিবার হ্যালোকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ইউনিসেফের সদর দপ্তরে কর্মরত সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট  রওনক খান।

নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদর দপ্তরে হ্যালো. বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক আর্শিয়ানা নওশীন বিনতে মাহবুবের সাথে আলাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রওনক খান জানান, ইউনিসেফ ভবিষ্যতে পরিবেশগত সমস্যা নিয়ে কাজ করবে।

তিনি বলেন, “ইউনিসেফ মনে করে পরিবেশগত সমস্যার জন্য শিশুদের নানা রকম রোগ হচ্ছে। নোংরা পানি পান করায় শিশুদের ডাইরিয়া হচ্ছে।

“তাই পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে।

“এছাড়াও আরো নতুন নতুন সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করারও পরিকল্পনা রয়েছে।”

শিশু উন্নয়নে বর্তমানে ১৫০টির বেশি দেশে ইউনিসেফ  কাজ করছে জানান তিনি।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter